জানা অজানা বিষয়

বাংলার প্রচলিত শ্লোক ও ঐতিহ্য প্রবাদ এবং জ্ঞানের আড্ডা জানার উপায়।

বাংলার প্রচলিত শ্লোক

১.
মাইয়্যার নাম রাম বালা
কান্দে আর বান্দে ছালা ।

ঘটনা হল রাম বালা গেসে বাপের বাড়ি ।তারপর বাপের বাড়ি থেকে যাবার দিন একদিকে কান্দে আর এক দিকে বাপের বাড়ির তত্ত্ব , জিনিস পত্র নেবার জন্য ছালা বাঁধে । মানে একটু কটাক্ষ করে বলা হইসে আর কি !

২.
মাইয়্যা এক যায় খাইয়া
আরেক যায় লইয়্যা
আবার থাকে পথের দিকে চাইয়্যা ।

মানে এটাও বাপের বাড়ি সংক্রান্ত ।মেয়ে খেয়ে যায় , নিয়ে যায় আবার বাপের বাড়ি থেকে কি পাঠানো হবে তার আশায় চেয়ে থাকে (হ কৈসে)। এখানেও কটাক্ষ করে বলা হয়েছে ।

আগের দিনে মেয়েরা বাপের বাড়ি আসত হয়ত দিনের পর দিন অপেক্ষার পর , স্বামী , শ্বশুর বাড়ির সবার মর্জি হলে । দীর্ঘ দিন পর বাপের বাড়ি এসে দেখত তার লাগানো গাছ টা হয়ত মরে গেসে , গরু টা হয়ত নেই ।তারপর যাওয়ার সময় , মায়ের হাতের বাপের বাড়ির সব ভাল খাবার দাবার এসব দিয়ে দেয়া হত । আবার কবে আসবে ! এই নিয়ে ও প্রচলিত আছে সমাজে এমন বাঁকা কথা ।সমাজে মেয়েদের স্পেস এত কম কেন ?

৩.
পোলারে তুতিবুতি
মাইয়্যারে লাই
তার চৌদ্দ গুষ্ঠির নাই
নরকে ঠাই ।

যদি ছেলে কে অতি আহ্লাদ দেন , আর মেয়েকে প্রশ্রয় , তা হলে ছেলে মেয়ে গোল্লায় যাবে আর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাবে ।

৪.
ছোট কালে সোনামুখ
বয়সের কালে আয়না
বুড়া কালে বান্দরীমুখ
কেউর দিকে কেউ চায় না।

বয়সের সাথে সাথে মেয়েদের রুপের যে পরিবর্তন হয় , সেটাই বলা হয়েছে ।

৫.
ভাগের হতিন সখিনা
রাত পোহালে দেখি না।

সখিনা কে শুধু ভাগ যোগের সময় পাওয়া যায় ,তারপর তার আর খবর পাওয়া যায় না। বোঝানো হয়েছে স্বার্থপর মানুষ কিংবা যারা শুধু মাত্র নিজেদের পাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ।

৬.
মোটে মায় রান্দে না
পান্তায় তার হয় না।

গরীব মানুষ তাদের বাড়িতে তো রান্না বান্নাই তেমন হয়না ,পান্তাই তাদের তত্ত্ব ।

৭.
জামাই কইন্যার দেখা নাই
শুক্কুর বার বিয়া।

অতি আগাম চিন্তা ভাবনা ।

৮.
পাইলাম থালে
দিলাম গালে
পাপ নাই তার
কোন কালে ।

পড়ে পাওয়া জিনিস এর কোন মালিকানা নেই , যেই পাবে সেই নেবে ।

৯.
তোমার আছে , আমার নাই
রস চুরিতে পাপ নাই
যদি কর বাড়াবাড়ি
থাকবে নাকো রসের হাড়ি

রস চুরি হালাল করার অজুহাত , বাড়াবাড়ি করলে রসের হাড়ি ঢিল দিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হবে ।রস চুরি করে এই ছড়া কাটা হয় মনে হয়।

১০.
আছে গরু না পায় হালে
দুঃখ না ছাড়ে কোন কালে ।

যার গরু আছে কিন্তু হাল চাষ করে না , তার দুঃখ অভাব কখনই যাবে না । পরিশ্রম না করলে সৌভাগ্য আসবে না ।

১১.
বাইন্না কুইট্টা মরে কেউ
ক্ষুদ দিয়া পেট ভরে কেউ ।

ঢেঁকি তে চাল ভাঙ্গার সময় ,ঢেঁকি আসে পাশে চালের ক্ষুদ জমে যায় ।কেউ হয়ত তখনি খাওয়াতে ব্যাস্ত হয় । প্রতিকি হিসেবে বলা হয়েছে যারা রান্নার কাজের আশেপাশেও আসেনা কিন্তু খাবার সময় ঠিক হাজির ।

১২.
ঘরের মধ্যে ঘর
জনে জনে হাওলাদার।
ঘরের সবাই নিজেকে মাতব্বর মনে করে

১৩.
আর গাব খাব না
গাবতলা দিয়া যাব না
গাব খাব না, খাব কি ?
গাবের তুল্য আছে কি ?

এক কাকের গলায় গাব আটকে গেসে । সাথে সাথে তার প্রতিজ্ঞা , সে জীবনেও গাব খাবে না । বলতে বলতে ই যেই গলা থেকে চলে গেসে ,সেই তার উল্টো উপলব্ধি ! প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গতে কতক্ষণ!

১৪.যেখানে মজিবে কায়া
নাও থুইয়া তরেও জায়া ।

যেখানে মৃত্যু কপালে আছে সেখানে যেভাবেই হোক ,অদৃষ্ট টেনে নিয়ে যাবে ।

বাংলার প্রচলিত শ্লোক ও ঐতিহ্য প্রবাদ এবং জ্ঞানের আড্ডা জানার উপায়, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য প্রবাদ, প্রবচন ও শ্লোক, আঞ্চলিক ভাষায় গ্রাম্য শ্লোক/খনার বচন, করে। বাঙলা প্রবাদ বাক্য জানার উপায়, প্রবাদ ও প্রবচন জানার উপায়, প্রবাদ প্রবচন ,ভালবাসার প্রবাদ বাক্য,

Related Post





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*