অন্যান্য

পহেলা বৈশাখের নতুন নতুন বাংলা টিপ্স ১৪২৫

পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যের এক উৎসব। বাংলা বছরের প্রথম এই দিনটি অর্থাৎ বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি বাঙ্গালিরা নববর্ষ হিসেবে পালন করে থাকে। নববর্ষের এই দিনে আমরা বাংলা সংস্কৃতির কাছে ফিরে যেতে চাই এবং বাংলার বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া ব্যাপারগুলোর কাছে ফিরে যাই আমাদের শিকড়ের টানে। বৈশাখ আমাদের বাঙ্গালিয়ানা কে জাগিয়ে তুলে এবং আমরা যে বঙ্গ সন্তান এটা বার বার মনে করিয়ে দেয়। পহেলা বৈশাখ তাই বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব, বাঙালি সত্ত্বার উৎসব।

পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। বিশ্বের সকল প্রান্তের সকল বাঙালি এ দিনে নতুন, বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা একে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ্য হিসেবে বরণ করে নেয়। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। আধুনিক বা প্রাচীন যে কোন পঞ্জিকাতেই এই বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

এসো হে বৈশাখ এসো এসো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এসো হে বৈশাখ ! এসো এসো,
তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।

মেলায় যাইরে

জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা

জেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা

বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে

ফিরে এলো সুরের মঞ্জুরী

পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন

এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে

বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়

ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই

মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

জেগেছে রমণীর খোপাতে বেলী ফুলের মালা

ভিনদেশী সুগন্ধী মেখে আজ প্রেমের কথা বলা

রমনা বটমূলে গান থেমে গেলে

প্রখর রোদে এ যেন মিছিল চলে

ঢাকার রাজপথে রঙের মেলায়

এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি…

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে

বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়

ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই

মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

বৈশাখে পান্তা ইলিশ

পান্তা ভাতের রেসিপি

উপকরনঃ

২৫০ গ্রাম চাল, ১০ কাপ পানি। কাঁচা পেয়াজ – পরিমান মতন , কাঁচা লঙ্কা – স্বাদ বুঝে , লবন – আন্দাজ মতো।

রান্নার প্রনালীঃ

একটি পাত্রে চাল ধুয়ে ২ কাপ পানি দিয়ে চুলার উপর বসিয়ে দিন। দেখুন গ্যাস আছে কি না । গ্যাস থাকলে মনে করে চুলা জ্বালান । তারপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন ।

কয়েক মিনিট পর হাড়ি থেকে চাল তুলে টিপি দিয়ে দেখুন সিদ্ধ হয়েছে কি না । সিদ্ধ হলে বুঝবেন তা “ভাত” হয়ে গেছে। এবার ভাত থেকে বাড়তি পানি ঝরিয়ে নিন। (মাড় গলিয়ে নেয়া যাকে বলে)

ভাত ঠান্ডা হলে তাতে বাকী ৮ কাপ পানি ঢেলে শুকনো, ঠান্ডা জায়গায় ঢেকে রাখুন।
৮ ঘন্টা পর ঢাকনা খুলে দেখুন – তা পান্তা ভাতে রুপান্তরিত হয়েছে।

পেয়াজ, লঙ্কা, লবন দিয়ে মাখিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন – মজাদার পান্তা ভাত।

ইলিশ ভাজা

উপকরণ:

ইলিশ মাছ (পরিষ্কার করে পেটি ও গাদাসহ কেটে ধুয়ে পানি ঝরানো) ৮ টুকরা, রসুন বাটা আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, সিরকা ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, ময়দা আধা কাপ।

প্রণালি:

ময়দা বাদে মাছ সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে। ১ টুকরা করে মাছ ময়দায় গড়িয়ে অল্প তেলে ভাজতে হবে।

পান্তার সাথে ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে পরিবেশন করুন বাংলা বৈশাখের জনপ্রিয় পান্তা ইলিশ।

বৈশাখে মিষ্টিমুখ

বৈশাখ উদযাপনে তো মিষ্টিমুখ করতেই হয়। নতুন বছরে বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন তো হবেই। মিষ্টির আয়োজনটাও বাড়িতেই করতে পারেন।

গাজরের লাড্ডু

উপকরণ:

গাজর ১ কেজি, দুধ ১ লিটার, মাওয়া ২ কাপ, চিনি ৩ কাপ, ঘি আধা কাপ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, কেওড়া ১ টেবিল চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ ২টি।

প্রণালি:

গাজর মিহি কুচি করে দারুচিনি, এলাচ, দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে শুকিয়ে ফেলতে হবে। অন্য প্যানে ঘি গরম করে সেদ্ধ গাজরের সঙ্গে চিনি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হবে। একটু পর কেওড়া ও এলাচ গুঁড়া দিয়ে নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে প্যানের গা ছেড়ে এলে চুলা বন্ধ করে দেড় কাপ মাওয়া দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নেড়ে নিতে হবে। অল্প ঠান্ডা হলে লাড্ডুর আকার করে মাওয়ায় গড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

ফুলকপির পায়েস

উপকরণ:

বড় ফুলকপি ১টি, দুধ ২ লিটার, আধা ভাঙা পোলাওয়ের চাল আধা কাপ, কনডেন্সড মিল্ক এক টিন; নতুন খেজুরের গুড় এক কাপ, এলাচ গুঁড়া এক চা-চামচ; দারুচিনি গুঁড়া আধা চা-চামচ; পেস্তা ও আমন্ড বাদাম কুচি ৪ টেবিল চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, হাতে বানানো মাওয়া গুঁড়া এক কাপ।

প্রণালি:

চাল এক লিটার দুধ দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। ফুলকপির ফুলগুলো ছোট করে কেটে আধা লিটার দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। চালের সঙ্গে মিশিয়ে গুড়, বাকি আধা লিটার দুধ, দারুচিনি, এলাচ গুঁড়া দিয়ে রান্না করতে হবে। ঘন হয়ে এলে কনডেন্সড মিল্ক, হাতে বানানো অর্ধেকটা মাওয়া, কিশমিশ, পেস্তা, আমন্ড কুচি দিতে হবে। ফুলে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। পরিবেশন পাত্রে ঢেলে মাওয়া গুঁড়া, পেস্তা বাদাম দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা হলে পরিবেশন করতে হবে।

হাতে বানানো মাওয়া

উপকরণ:

গুঁড়া দুধ এক কাপ, চিনি দুই টেবিল চামচ, ঘি দুই টেবিল চামচ, কেওড়া এক টেবিল চামচ।

প্রণালি:

সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে হাত দিয়ে গুঁড়া করে নিতে হবে।

চকলেট ফাজ

উপকরণ:

কুকিং চকলেট ১ কাপ, কোকো পাউডার আধা কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ১ টিন, মাখন ৫০ গ্রাম, কাজুবাদাম আধা কাপ।

প্রণালি:

ছয় ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চি মোল্ডে অয়েল পেপার মুড়িয়ে তেল বা মাখন ব্রাশ করে রাখতে হবে। ওভেন প্রুফ বাটিতে কোকো পাউডার ও কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে উচ্চ তাপে দুই মিনিট রাখতে হবে। বাটি বের করে কাজু, চকলেট, মাখন মিশিয়ে আবার ৩০ সেকেন্ড ওভেনে রেখে দিতে হবে। এবার এই চকলেট মিশ্রণ মোল্ডে ঢেলে ফ্রিজে তিন-চার ঘণ্টা রেখে পছন্দমতো আকারে কেটে পরিবেশন করতে হবে।

সুজির আফলাতুন

উপকরণ: সুজি দুই কাপ, গুঁড়া দুধ এক কাপ, মাওয়া গুঁড়া আধা কাপ, ডিম চারটি, ঘি আধা কাপ, গুঁড়া চিনি এক কাপ। বেকিং পাউডার এক চা-চামচ, পেস্তা ও আমন্ড বাদাম কুচি চার টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া এক চা-চামচ। শিরার জন্য: চিনি দুই কাপ, পানি এক কাপ, কেওড়া এক চা-চামচ, ঘি এক টেবিল চামচ, লেবু-হলুদ রং (ফুড কালার) এক ফোঁটা।

প্রণালি: সুজি, গুঁড়া দুধ, মাওয়া, চিনি, বেকিং পাউডার, এলাচ গুঁড়া, ঘি একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণে পেস্তা, আমন্ড কুচি ও ডিম দিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে। ৮ বাই ৮ ইঞ্চি মোল্ডে ঘি লাগিয়ে মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। ওভেনে ২৫-৩০ মিনিট বেক করতে হবে। বন্ধ ওভেনে ১০-১৫ মিনিট রাখতে হবে। শিরার জন্য চিনি, পানি, কেওড়া জ্বাল দিয়ে রং ও ঘি মিশিয়ে নিতে হবে। গরম শিরা আফলাতুনের ওপর ঢেলে দিয়ে কিছুক্ষণ মোল্ডে রেখে পছন্দমতো আকার করে পরিবেশন করতে হবে।

নতুন গুড়ের প্যারা

উপকরণ:

দুধ ১ লিটার, নারকেল বাটা আধা কাপ, নতুন গুড় এক কাপ, গুঁড়া দুধ এক কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ।

প্রণালি:

দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে চুলায় দিয়ে নাড়তে নাড়তে শুকিয়ে ফেলতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে ছোট ছোট লেচি কেটে প্যারা বানাতে হবে।

জানার উপায়: পহেলা বৈশাখের নতুন কথা ১৪২৫, পহেলা বৈশাখের মজার টিপ্স, পহেলা বৈশাখের রান্নার টিপ্স, এসো হে বৈশাখ এসো এসো বাংলা লেখা সং, মেলায় যাইরে বৈশাখির দিন, বৈশাখে পান্তা ইলিশের কিছু নতুন টিপ্স ১৪২৫, বৈশাখে মিষ্টিমুখ করার বাংলা টিপ্স জানার উপায়

Related Post




One thought on “পহেলা বৈশাখের নতুন নতুন বাংলা টিপ্স ১৪২৫”

  • MikkiChief April 15, 2018 at 12:40 am

    I have checked your site and i have found some duplicate content, that’s why you
    don’t rank high in google’s search results, but there is a tool that can help you to create 100% unique content, search for:
    boorfe’s tips unlimited content

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*