জীবনযাপন

পহেলা বৈশাখের সাঁজের ভূমিকা মেকআপ, পোশাক, শাড়ি ও চুলের সাজ। জানার উপায়

পহেলা বৈশাখের সাঁজের ভূমিকা

পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়ছে । বৈশাখের উৎসব বাঙালির। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালিরা এই উৎসব পালন করে থাকে। এইদিনে সবাই নিজেকে বাঙালি সাজে সাজাতে পছন্দ করে। এই দিনটাকে ঘিরে মেয়েদের থাকে আলাদা উৎসাহ।

বৈশাখের সাথে সাথে আসে প্রচণ্ড গরম। তাই সাজের ব্যাপারে একটু যত্নশীল হতে হয় মেয়েদের। কারণ সারাদিন বাহিরে ঘুরাঘুরি আনন্দদায়ক হওয়া চাই। অতিরিক্ত গরমের কারণে সাজ নিয়ে একটু টেনশনে পরে যান মেয়েরা।

পহেলা বৈশাখের পোশাক ১৪২৫

বৈশাখে সুতি শাড়ি বেছে নেওয়া ভালো। আগে সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরা হতো, কিন্তু এখন নানা রঙের শাড়ি পরা হয় বৈশাখে। একরঙা সুতি শাড়িতে চিকন পাড় ভালো লাগে। যেহেতু গরম তাই হাফহাতা ব্লাউজ পরতে পারেন। শাড়ির সাথে মিল রেখে বাটিকের ব্লাউজ পরতে পারেন। তবে শাড়ি বাঙালী স্টাইলে পরলেই ভালো লাগবে।

এইদিনে অনেকেই সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া পরতে পছন্দ করে। উৎসবটি যেহেতু একেবারেই দেশীয় সংস্কৃতির তাই মেয়েদের জন্য শাড়ি, আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবীটাই বেশি মানানসই।

পহেলা বৈশাখের মেকআপ ১৪২৫

নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে মেকআপ করাটা জরুরী। যেহেতু খুব গরম থাকবে তাই সেটা হাল্কা বেইজের ওপর হওয়া উচিত। যেহেতু দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হবে তাই খুব বেশি মেকআপ না নেয়াই ভালো।

মেকআপ করার আগে মুখে বরফ টুকরা ঘষে নিন এতে মেকআপ ত্বকের ভেতরে যাবেনা আর ঘাম কম হবে। হাল্কা ফেস পাউডার ব্যবহার করুন। চোখ গাড় করে সাজান আর গাড় লিপস্টিক ব্যবহার করুন। সাজ খুব সাধারণ হবে কিন্ত খুব আকর্ষণীয় দেখাবে।

পহেলা বৈশাখের গয়না ১৪২৫

গয়না ছাড়া শাড়ি একেবারে বেমানান। বৈশাখে আপনি শাড়ির সাথে মাটির গয়না বেছে নিতে পারেন। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রূপা, মুক্তা বা তামার মালাও পরতে পারেন। ভারি গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন।

পহেলা বৈশাখের চুড়ি সাঁজ ১৪২৫

বাঙালি নারীর হাত ভর্তি চুড়ি তো থাকতেই হবে! গয়না না পরলেও দুহাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়।পোশাকের রঙের প্রাধান্য যেটাই থাকুক না কেন, হাতে থাকা চাই রেশমি চুড়ি।

পহেলা বৈশাখের চুলের সাজ ১৪২৫

এই দিনটিতে চুল কেমন করে বাঁধবেন তা নিয়ে যেনো চিন্তার শেষ নেই ! অনেকে চুল খোলা রাখতে পছন্দ করে, অনেকে গরমে খোলা চুলে অস্বস্তি অনুভব করে। যারা গরমে চুল খোলা রাখতে অস্বস্তি অনুভব করেন তারা চুল বেণী বা খোঁপা করে রাখতে পারেন।

যারা খোঁপা করবেন তারা খোঁপাতে একটা ফুল আটকিয়ে নিতে পারেন। যারা চুল খোলা রাখবেন তারা চুল এক পাশে নিয়ে অন্য পাশে একটা ফুল দিয়ে রাখতে পারেন। যাদের চুল ছোট তারা সুন্দর করে আঁচড়ে ক্লিপ লাগিয়ে রাখতে পারেন। ইচ্ছে করলে ফুলের মুকুটও পরে নিতে পারেন।

পহেলা বৈশাখের টিপ নিয়ে কথা

বৈশাখে লাল টিপের জুড়ি নাই। শাড়ির সাথে খুব বেশি মানিয়ে যায় এই লাল টিপ। ইচ্ছে করলে শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে টিপ পরতে পারেন।

পহেলা বৈশাখি ব্যাগ ও জুতা ও অন্যান্য

শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ নির্বাচন করতে পারেন । তবে কালো আর লাল রঙের ব্যাগ মানিয়ে যায় সব রঙের শাড়ির সঙ্গে। মাঝারি সাইজের ব্যাগ ব্যবহার করুন আর প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন । ব্যাগ বেশি ভারী না করাই ভালো।

জুতা অনেকেই হিল পড়তে পারে না। যারা হিল পড়তে পারেন না তারা স্লিপারই পরে বের হোন। যাদের হিলে সমস্যা নেই তারা হিল পড়তে পারেন । শাড়ির সাথে হিলটা মানানসই।

পহেলা বৈশাখে কেমন হবে আপনার শাড়ি ১৪২৫

এইতো কয়দিন আগেই গেলো বসন্তবরণের পালা , আবার সামনে আসছে পহেলা বৈশাখ। এই উৎসব বাঙ্গালির বিরাট এক উপলক্ষ আনন্দ করার, বাংলা বছরকে বরণ করে নেয়ার। রমণীদের সব বাহানার মধ্যে বিরাট এক বাহানা হলো সাজসজ্জায় বিশেষ রূপ ফুটিয়ে তোলা। এরই মধ্যে বঙ্গললনাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ !

শাড়িখানা কেমন ঢঙের হবে, রঙের ক্ষেত্রে চেনা ধারায় বদল ঘটবে কিনা, এই চিন্তায় চিন্তায় ললনাদের ঘুম সাড়া !

অনেকের হয়তো সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে, অনেকের আবার কিছুই ঠিক হয় নাই এখনো। উৎসবের আমেজ রয়েছে কমবেশি সকলের মনেই। আর মাত্র কয়টা দিন, তারপরেই সেই মহেন্দ্রদিন !

বৈশাখী উৎসব মানেই কেবল লাল-সাদার ছড়াছড়ি নয়, পাড়ে লাল আর জমিনে সাদা রঙের শাড়ি নয় ! মেয়েরা এখন দিব্যি ইচ্ছে মতন সব রঙ বেছে নিচ্ছে পহেলা বৈশাখের উৎসবেও। লাল-সাদা শাড়ির চল আছে ঠিকই তবে সেটাই ট্রেন্ড নয়। এই বিশেষ দিনটায় লাল কিংবা সাদা রঙের ধারেকাছে না থাকাটা যে ধারার বাইরের কিছু, আজকাল তাও কেউ ভাবছে না।

উৎসবমুখর আমেজ ফুটিয়ে তোলে, এমন সব রঙেই শাড়ি বেছে নেয়া যায়। চলতে পারে চিরায়ত ঐতিয়্যের উল্টোধারাও, লালরঙা জমিনের পাড়ে সাদা নকশা থাকুক আপনার শাড়িতে। টকটকে লাল শাড়ির সাদা পাড়ে সোনালি জরিসুতার কাজ দারুণ মানাবে। ঘন সাদা রঙের জামদানির আভিজাত্যেও সাজাতে পারেন নিজেকে সেদিন। সাথে বৈপরীত্যের লাল ব্লাউজ বেশ লাগবে। শাড়ি যখন জামদানি, ব্লাউজের কাপড়টাও হতে হবে তার সাথে মানানসই। বেছে নিতে পারেন সুতি কাতান কাপড়ের ব্লাউজ, একরঙা ব্লাউজের হাতায় লেইস ফিতার খুব সাধারণ কাজ। সেই সাথে বেণীতে ফুল জড়ানো মুগ্ধতায় আপনার সম্পূর্ণ সাজখানা অসাধারণ হয়ে যাবে।

পুরো সাজপোশাকে রঙের ঝকমারি নেই, তবু স্নিগ্ধতায় ভরা সাজখানা ভারি জমকালো দেখাবে। কোটা কাপড়ের শাড়িগুলি উত্তপ্ত বৈশাখী দিনের জন্য আদর্শ। একরঙা কোটা শাড়িতে কয়েক পরত পাড় বসিয়ে নিয়ে আরামদায়ক শাড়ি বানিয়ে নিতে পারেন আপনার বর্ষবরণ উৎসবের জন্য। গরমে স্বস্তিও হলো, সাথে নিজের বানানো শাড়িও হলো। পাড়ে যে লেইসের ব্যবহার চলতে পারে, তার সাথে রঙ মিলিয়ে তৈরি করুন ব্লাউজখানা। পাড় খুব চওড়া হলে শাড়িটাই একটু জমকালো দেখাবে, তখন একরঙা ব্লাউজও ভালো লাগবে । আর পাড় চিকন রাখলে ব্লাউজ বানান নকশাদার কাপড়ে।

যেমন শাড়িই বেছে নিন না কেনো, আনন্দের সাথে আরাম আর স্বস্তির খেয়ালটাও রাখুন। উৎসব পালন যেনো বিরক্তি নিয়ে না আসে বৎসরের পয়লা দিনটায়। আনন্দে আর শান্তিতে কাটুক এমন উৎসবের দিনখানা।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*