নিজের ব্রেইনকে করুন সুপার এক্টিভ :: আপনার লাইফের সকল সমস্যার সমাধান এনে দিবে Binaural Beats

মানুষ হচ্ছে আল্লাহর তৈরী একটি পূর্ণাঙ্গ সুপার কম্পিউটার; আর এই কম্পিউটারের সিপিইউ হচ্ছে আমাদের ব্রেইন।

একটি কম্পিউটার কতোটা সক্রিয় হবে কিংবা কতোটা দামী হবে সেটা যেমন অনেকাংশে নির্ভর করে তার সিপিইউ এর ওপর তেমনি একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তার লাইফে কতোটা সফল হতে পারবে সেটা নির্ভর করে তার ব্রেইনের ওপর।

একটি কম্পিউটার’কে ডেভোলপ করতে সেটার সিপিইউ পাল্টানো যেতে পারে তবে মানুষের ক্ষেত্রে ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্টেশন এখন কার্যত সম্ভব নয়; পরিবর্তে আমরা আমাদের ব্রেইনকে ট্রেইন দিয়ে সুপার এক্টিভ করতে পারি যাতে লাইফে সাকসেস হতে পারি।

 

আজ আমি এমন একটি টেকনোলজির কথা বলবো যাতে “আপনার লাইফের প্রায় সকল সমস্যা” আপনি শুধু ব্রেইন দিয়েই সামাধান করে লাইফে সাকসেসফুল এবং স্যাটিসফাইড হতে পারবেন….ডু ইউ বিলিভ ইট?!

আসুন জটিল আলোচনার আগে সহজ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করি;
(১) মনে করুন আপনার গার্লফ্রেন্ড আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে; এখন আপনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন!
(২) জীবনে গভীর হতাশা আর দুঃখে আপনি ড্রাগ নিয়ে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন, নিজের লাইফকে নেশার ধুয়ায় অন্ধকার করে ফেলেছেন।

এখন “সমাধান” কি???!!!

নিশ্চয়ই নিছক মোটিভেশন কিংবা সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট অথবা বড়োজোর ঘুমের ঔষধ আপনার সমস্যার স্বার্থক সমাধান নয়; তাহলে কিভাবে মিলবে আপনার অসুখের কাঙ্খিত সেই মহাঔষধ??!!

সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তার আগে নির্ণয় করুন কোথা থেকে আপনার “সমস্যা” সৃষ্টি হয়েছে?
নিশ্চয়ই “মন” থেকে তাইতো??
না…আপনার সমস্যা সৃষ্টির আসল আতুরঘর হলো “ব্রেইন”; সুতরাং সমাধান পেতে হলে ব্রেইনটাকেই মেরামত করা আবশ্যক; নিছক মনের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া নির্বুদ্ধ-বোকামি ছাড়া আর কিছুই না!!!

আমাদের ব্রেইনের মাঝে আছে অসংখ্য অসংখ্য নিউরন; সেইসব নিউরনগুলো একটি সূক্ষ্ম নেটওয়ার্ক সিস্টেমে পরস্পর তথ্য আদান প্রদান করে। এই কমিউনিকেশন সিস্টেম আমাদের ব্রেইনে একটি ওয়্যেভ বা তরঙ্গ তৈরী করে যেটাকে ব্রেইন ওয়্যেভ বলে। আবার তরঙ্গ যেখানে-কম্পাংক সেখানে; তাই আমাদের ব্রেইনওয়্যেভেরও একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি আছে যেটার সীমা 0.1 Hz হতে 50 Hz পর্যন্ত [ এই ফ্রিকোয়েন্সি আবার পাঁচটি ভাগে বিভক্ত Delta, Theta, Alpha, Beta, Gamma ]।

আমাদের ব্রেইন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রেঞ্জে ওয়্যেভ তৈরী করে যেমন Delta হলো 0.1-4 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যখন ব্রেইন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে কিংবা গভীর ঘুমে কোন স্বপ্ন দেখে।

Theta হলো 4-8 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যখন ব্রেইন ঘুমঘুম ভাবে থাকে; অনেকটা আধ-জাগরন আধ-ঘুম অবস্থা। এই অবস্থাটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এমন অবস্থায় মানুষের অবচেতন মনে হিপ্নোসিসের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

Alpaha হলো 8-14 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যেখানে আমাদের মানসিকতা প্রশান্তিতে ব্রেইন শান্ত থাকে এবং আমরা রিলাক্স থাকি।

Beta হলো 14-30 Hz যখন আমরা কোন কাজ করি এবং আমাদের ব্রেইন ফোকাসড থাকে।

Gamma হলো 30- 50 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যেখানে শরীর বা মানসিক উত্তেজনায় আমাদের ব্রেইন উদ্দীপ্ত থাকে।

ফ্রিকোয়েন্সি কি মানুষের সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে???

মনে করুন আপনার ঘুম আসছে না, এমন সময়ে আপনার ব্রেইনে যদি 4-8 Hz ফ্রিকোয়েন্সি অতঃপর ধীরে ধীরে তা কমিয়ে 4-0.1 Hz তে নিয়ে আসা যায় তাহলে নিশ্চয়ই আপনার ঘুম আসতে বাধ্য যেমন কঠিন টেনশনে স্লিপিং পিল খেলে আপনি ঘুমুতে বাধ্য হন; তো এই ফ্রিকোয়েন্সি কানের মাধ্যমে আপনার মধ্য ব্রেইনে পৌছাবে এবং এনালাইসিস করে আপনার শরীরকে সেভাবেই কমান্ড দিবে; অনেকটা ব্রেইনকে বোকা বানানো আরকি!

কিন্তু আমাদের স্বাভাবিক শ্রাব্যতার সীমা হলো 20 Hz থেকে 20 kHz; আমাদের কান এই ক্ষুদ্রতর 0.1 Hz এর মতোন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ গ্রহণ করে ব্রেইনে পাঠাতে পারে না।

তাহলে উপায়??

ঠিক এখানে আসে Binaural beats নামক বিষয়টি; ধরুন আপনার ডানকানে 100 Hz ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ এবং বামকানে 105 Hz ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ইনপুট হলে (105-100)Hz = 5Hz এর তৃতীয় ফ্রিকোয়েন্সির টোন আপনার ব্রেইন অনুলব্ধি করে।
এই Binaural beats এর সহায়তায় আমরা আমাদের ব্রেইনকে বিভিন্নভাবে ট্রেইন করতে পারি এবং সফলতা লাভ করতে পারি যেমন অনিদ্রা সমস্যা, ব্রেইনকে ধীর স্থীর করা, ফোকাস করানো, মনকে শান্ত- প্রফুল্ল করা ইত্যাদি।

Binaural beats এর সহায়তার ব্রেইনকে ট্রেইন করানোর জন্য আপনারা ইচ্ছাশক্তি এবং সময় প্রয়োজন; আপনি একদিনেই যে সবকিছুতে সফল হবেন এমনটা নয় বরং আপনাকে ধৈর্য্যশীল এবং নিয়মানুবর্তী হতে হবে। যেমন বেশ কিছু বছর আগে US national library of medicine এর আন্ডারে পাবলিশ হওয়া pubmed. gov এ একটি আর্টিকেল ছিল binaural waves ও anxiety disorder নিয়ে। যাতে গবেষণালব্ধ ফলাফল দেখানো হয়েছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ক্রমাগত চার সপ্তাহ binaural beats শোনা দলের anxiety লেভেল অন্যদের তুলনায় কমেছে। [ তথ্যসূত্র- altern ther health med. 2001. Jan;7(1) 58-63]

লেখার শুরুর দিকে আমি দুইটা সমস্যার কথা বলেছিলাম মনে আছে?
(১) গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়া এবং (২) ড্রাগ এডিকশন; এগুলার সমাধান কি Binaural beats দিতে পারে?

অবশ্যই পারে…
আপনার প্রয়াত জিএফের নিয়ন ফোকাস থাকা Gamma ফ্রিকোয়েন্সি’কে Beta ফ্রিকোয়েন্সি এবং Beta ফ্রিকোয়েন্সিকে Alpaha তে নিয়ে আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেওয়া যেতে পারে; এমনকি Theta ফ্রিকোয়েন্সিতে আপনার অবচেতন মন’কে বিভিন্ন কমান্ড দিয়ে মোডিফাই করা যেতে পারে যেমনটা সাইকোলজিক্যাল সমস্যাতে সাইকিয়াটিস্ট আমাদের মোটিভেট করে থাকেন।
আর ড্রাগ এডিশনের বিষয়ে শুধু এতোটুকু বলায় এনাফ হবে যে একটি স্পেসিফিক 30 Hz ফ্রিকোয়েন্সি মারিজুয়ানার মতোন কঠিন নেশার মতোই আমাদের ব্রেইনকে উদ্দীপিত করে; আবার এই ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারাই নেশার এডিশন হতে মুক্তি পসিবল।
নিতান্তপক্ষে হাস্যকর শোনালেও ড্রাই অর্গাজমের বিষয়টিও ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারাই আপনার ব্রেইনে সেক্সুয়াল স্যাটিসফেকশন তৈরী করতে পারে।

আবার পড়াশোনাতে অমনোযোগীতার জন্য পড়ার টেবিললে বসার আগেই আপনার ব্রেইনকে ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারা সর্বোচ্চ ফোকাস করে নিতে পারেন।
মোদ্দকথা আপনার লাইফে সবসময় একজন ইনভিজিবল-ইন্ডিভিজ্যুয়াল-ভার্চুয়াল পার্টনার হিসাবে ফ্রিকোয়েন্সিকে ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনি আপনার লাইফের সকল সমস্যার সলুউশন নিজেই ব্রেইনের মাধ্যমে করে নিতে পারবেন।

নিম্নে আমি জিপ আকারে ogg ফরম্যাটে কিছু অডিও ফাইল দিচ্ছি যেগুলির ভেতর স্পেসিফিক ডেলটা-থেটা-আলফা-বিটা-গামা সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সি ছাড়াও অনিদ্রা-মাথা ব্যাথা-মেডিটেশন-সেল্ফ হিপ্নোসিসের মতোন ব্রেইন ট্রেইনের জন্যও অনেকগুলা সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সির ফাইল পাবেন; আপনি অডিও মিউজিক রিপিট করে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় মতো নিজের ব্রেইনকে ট্রেইন করে ব্রাইট করতে পারেন।
ডাউনলোড লিংক→ Download Link

শেষটাই শুধু এতোটুকু বলবো যে আপনার যদি এখনো ব্রেইন ওয়্যেভ-ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে সন্দেহ থাকে তাহলে বাজার থেকে একটা পিয়াজো ডিস্ক কিনে টেপাটেপি করে দেখুন….আপনার হাতের নীল এলইডি লাইট ঠিকই মিটিমিটি করে জ্বলবে!!!

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

☻ ভূতের_রাজা ☻

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *