কালোজিরার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরার ( black seed oil ) উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরা বিশ্বজুড়ে বহুবর্ষজীবী ভেষজ হিসাবে পরিচিত, বিশেষত গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে এবং ডায়রিয়া, বদহজম,
ক্ষত এবং শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের মতো অসুস্থতার চিকিত্সার জন্য এটি বিশ্বের অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয়।
কালোজিরার কৃষি ও ভেষজ সুবিধাগুলি বিজ্ঞানীরা ভালভাবে অধ্যয়ন করেছেন, এরপরে এটিকে পরিপূরক ও
বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিকের উত্স হিসাবে ব্যবহার করার জন্য বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কালোজিরা খাবারের উদ্দেশ্যে খুব অল্প ব্যবহারযোগ্য। মধু ও কালিজিরা – তারুণ্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে কালিজিরা
খাওয়াটা দীর্ঘদিনের রীতি।অনেকে গোপন শক্তি বাড়াতে চিকিৎসকের আশ্রয় নেন ও ভায়াগ্রা সেবন করেন! তাদের বলছি-এর জন্য ভায়াগ্রা নয়,
এক চামুচ কালোজিরাই যথেষ্ট। কারণ কালোজিরায় এ ক্ষমতা অপরিসীম।

বমি, বমিরোধক, রুচিবর্ধক ও হজমকারক হালুয়া হামদর্দ

কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও এর উপকারিতা

১।স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিঃ
এক চা চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা চামচ কালোজিরা তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে নিয়মিত খাবেন।
যা আপনার দুশ্চিন্ত দূর করবে। এছাড়া এটি মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক।
মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

২।মাথা ব্যাথা নিরাময়েঃ
১/২ চা চামচ কালোজিরা তেল মাথায় ভালোভাবে লাগাতে হবে এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে তিনবার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে মাথা ব্যথায় উপকার পাবেন।

৩।সর্দি সারাতেঃ
এক চা চামচ কালোজিরা তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার খেতে হবে এবং মাথায় ও ঘাড়ে রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মালিশ করতে হবে।
এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেলের সাথে দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হবে।

৪।বাতের ব্যাথা দূরীকরণেঃ
আক্রান্ত স্থানে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন উপকার পাবেন।
এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরা সমপরিমান মধু মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

৫।হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেঃ
এক চা চামচ কালোজিরার গুড়া এক কাপ দুধের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

৬।ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতেঃ
প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যের তাপে কমপক্ষে আধাঘন্টা অবস্থান করতে হবে এবং
এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭।পাইলস সমস্যা নিরাময়েঃ
এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তিলের তেল, এক চা চামচ কালোজিরার তেল সহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

৮।শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে: 
যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়।
কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্ট জনিত সমস্যা উপশম করে।

কালোজিরার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

৯।ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ
ডায়াবেটিস রোগ উপশমে বেশ কাজে লাগে কালোজিরা। এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন,
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে খেলে উপকার পাবেন।

১০।যৌন সমস্যা সমাধান করেঃ
কালোজিরা নারী পুরুষ উভয়ের যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং যৌন সমস্যা প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং
পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। এক চা চামচ মাখন,এক চা চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরা ও মধুসহ দৈনিক ৩ বার ৪/৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

১২।অনিয়মিত মাসিক সমস্যায়ঃ 
এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে খেলে কার্যকারীতা বুঝতে পারবেন।

১৩।বুকের দুধ বৃদ্ধি করতেঃ 
যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালিজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন।
মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে।

১৪।আমাশয় নিরাময়েঃ
আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে কালোজিরার ব্যবহার অনেক পুরোনো। এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ খাবেন।

১৫।শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতেঃ
দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও
মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে এটি।
তবে দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়।

কালোজিরার,কালোজিরা খাওয়ার সঠিক নিয়ম,কালোজিরার তেল,কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম,কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা,
কালোজিরার তেল এর উপকারিতা,কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিত্,কালোজিরার উপাদান,কালোজিরা সম্পর্কে হাদিস,
কালোজিরা তেল,কালোজিরা ও রসুনের উপকারিতা,কালোজিরা কিসমিসের উপকারিতা

Related posts