লিপিড (Lipid) কি? লিপিডের শ্রেণীবিভাগ, উৎস এবং বৈশিষ্ট্য

লিপিড (Lipid) কি? লিপিডের শ্রেণীবিভাগ, উৎস এবং বৈশিষ্ট্য

লিপিড একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। এগুলো সাধারণত স্নেহ পদার্থ নামে পরিচিত। মাছ, মাংসের চর্বি, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদিতে লিপিড বিদ্যমান থাকে।

লিপিডের শ্রেণীবিভাগ
আণবিক গঠন অনুসারে লিপিডকে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন–
(ক) ট্রাইগ্লিসারাইড বা নিউট্রাল লিপিড
(খ) ফসফোলিপিড
(গ) গ্লাইকোলিপিড
(ঘ) টারপিনয়েড
(ঙ) মােম।
(ক) ট্রাইগ্লিসারাইড বা নিউট্রাল লিপিড : তিন অনু ফ্যাটি এসিড এবং এক অনু গ্লিসারল সহযােগে গঠিত হয় ট্রাইগ্লিসারাইড। একে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- (১) চর্বি ও (২) তেল।
(খ) ফসফোলিপিড : সরল লিপিডের সাথে যদি ফসফেট সংযুক্ত থাকে তাকে ফসফোলিপিড বলে। যেমন- লেসিথিন, সেফালিন, প্লাজমামেমব্রেন ইত্যাদি।

লিপিডের উৎস

প্রাণিজ চর্বি, মাখন, ঘি, ইত্যাদি লিপিডের প্রাণিজ উৎস। কিছু উদ্ভিদের বীজ যেমন- সয়াবিন, সরিষা, তিল, তিসি, সূর্যমুখী, বাদাম, পাম, নারকেল, জলপাই ইত্যাদি লিপিডের উদ্ভিজ্জ উৎস।

লিপিডের বৈশিষ্ট্য

লিপিড পানিতে অদ্রবণীয়; এটি বর্ণ, স্বাদ ও গন্ধহীন। ক্লোরোফর্ম, অ্যাসিটোন, বেঞ্জিন ইত্যাদিতে লিপিড দ্রবীভূত হয়। সাধারণ উষ্ণতায় যেসব লিপিড কঠিন অবস্থায় থাকে তাদের স্নেহদ্রব্য বা ফ্যাট বলে এবং যেসব লিপিড তরল অবস্থায় থাকে সেগুলোকে তেল বলে। লিপিড ফ্যাটি এসিডের এস্টার হিসেবে বিরাজ করে। লিপিডের আণবিক ওজন বাড়ার সাথে সাথে গলনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। আর্দ্র বিশ্লেষণে লিপিড ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়। লিপিড পানির চেয়ে হালকা।

Related posts

Leave a Comment