“চারটি গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের তথ্য/উপাত্ত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান থেকে পাওয়া যায়।” ব্যাখ্যা করুন।

চারটি গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা

“চারটি গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের তথ্য/উপাত্ত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান থেকে পাওয়া যায়।” ব্যাখ্যা করুন। (“Four major Internal management decisions are taken from the information generated from the managerial accounting”. Describe in short.)

হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম কাজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের জন্য তথ্য সরবরাহ করা।
ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের হাতিয়ার হিসাবে হিসাববিজ্ঞান কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্য ব্যবহার করে থাকেন।
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় হিসাববিজ্ঞান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানার পৃথকীকরণ, যৌথ মূলধনী কারবার, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় উন্নত যোগাযোগ ইত্যাদির ফলে ব্যবসার পরিধি এত বিস্তার লাভ করেছে যে সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপনাকে হিসাববিজ্ঞান প্রদত্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়।

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নতিতে ব্যবস্থপনার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবস্থাপনার কাজ হলো পরিকল্পনা করা, কার্যরত ব্যক্তিদেরকে সংগঠিত করা,
কারবারের বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, অনুপ্রেরণা দান, সমন্বয় সাধন, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ, বাজেট প্রণয়ন ইত্যাদি।
ব্যবস্থাপনার এ সকল কাজ সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করার জন্য হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসী হিসাববিজ্ঞান অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিম্নোক্ত চারটি উপায়ে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে।

“আর পড়ুনঃ” সম্প্রতি একটি IAS লাভ-ক্ষতি হিসাব এবং উদ্বৃত্তপত্রে কিছু পরিবর্তন-এর কথা বলেছে। এগুলো কী?

“চারটি গুরুত্বপূর্ণ আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের তথ্য

১. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Planning and decision making) : আগামীতে কি করা হবে তা পূর্বাহ্ণে নির্ধারণ করাকে পরিকল্পনা বলা হয়।
পরিকল্পনা কল্পনাপ্রসূত কোন কাজ নয়। হিসাবরক্ষক কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
যেমন, নগদান পরিকল্পনা, বিক্রয় পরিকল্পনা, ক্রয় পরিকল্পনা, মজুত মালের পরিমাণ নির্ণয় করা,
উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, লাভের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ইত্যাদি কাজে হিসাববিজ্ঞান কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য সর্বদাই প্রয়োজন।

“আর পড়ুনঃ” হিসাবকালের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।

২. সংগঠন (Organization): ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ ব্যবসায় সংগঠনকে যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য হিসাববিজ্ঞানের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
বিনিয়োগকৃত অর্থ অর্থাৎ মূলধনের উপর লাভের হার কত, মূলধন কি অবস্থায় ব্যবসায় নিয়োজিত আছে,
ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনা কতটুকু দক্ষ ইত্যাদি তথ্য সরবরাহ করে হিসাববিজ্ঞান ব্যবসায় সংগঠনকে সহায়তা করে থাকে।

৩. প্রেষণা (Motivation): কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রেষণা দান ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ।
বিভিন্ন প্রকার প্রেষণার মধ্যে আর্থিক প্রেষণা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ব্যবস্থাপনাকে অবহিত হওয়া প্রয়োজন।
সংরক্ষিত হিসাবের দ্বারা ব্যবস্থাপক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন যে কি পরিমাণ আর্থিক প্রেষণা দান করা সম্ভব।

“আর পড়ুনঃ” হিসাব তথ্যের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী কারা? JAIBB

৬. নিয়ন্ত্রণ (Control): হিসাববিজ্ঞান তথ্য নিয়ন্ত্রণের অন্যতম হাতিয়ার।
আধুনিক ব্যবস্থাপনার প্রধান কাজ হল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যাদি সম্পন্ন করতে হলে নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
এই নিয়ন্ত্রণে হিসাববিজ্ঞান ব্যবস্থাপনাকে বেশি সহায়তা দিতে পারে।

Related posts