দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা কী কী?

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা কী কী? (What are the limitations of double entry system?)

দুইতরফা দাখিলা পদ্ধতি সর্বজনস্বীকৃতি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং
এ পদ্ধতির অনেক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু অসুবিধা পরিলক্ষিত হয়।
নিম্নে এ অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

১. হিসাব বইয়ের আকার বৃদ্ধি: দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের জন্য দুটি হিসাবের দুদিকে এবং দুই পর্যায়ে (জাবেদা ও খতিয়ান) হিসাবের বইতে লেখা হয়। ফলে হিসাবের বইয়ের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

২. হিসাব পদ্ধতির জটিলতা: দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে সঠিক হিসাব সংরক্ষণে নানা নিয়ম-নীতি,
কলাকৌশল, পদ্ধতি ইত্যাদি অনুসরণ করতে অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

৩. শ্রম, সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ: হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া বিশদ হওয়ায় অধিক সংখ্যক বই সংরক্ষণ করতে হয় এবং অধিক সংখ্যক লোক হিসাবনিকাশ কর্মের জন্য নিয়োগ করতে হয়।
ফলে এর জন্য প্রচুর শ্রম, সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়।
তাই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হয় না।

৪. বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন: এই পদ্ধতিতে হিসাব রাখতে হলে হিসাবরক্ষককে হিসাবশাস্ত্রের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন হতে হয়। হিসাবরক্ষণে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে এই পদ্ধতিতে হিসাব রাখা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ।

৫. ভুল হওয়ার সম্ভাবনা: হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া জটিল বলে হিসাবরক্ষণে ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো যায় না।

৬. সীমিত প্রয়োগ ক্ষেত্র: ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, একদিনের পারিবারিক বাজার,
সাংস্কৃতিক উৎসব ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতির পরিবর্তে একতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়োগ অধিক সুবিধাজনক।

৭. গোপনীয়তা রক্ষার সমস্যা: দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া বিশদ বিধায় অধিক সংখ্যক লোক হিসাবরক্ষণ কাজে নিয়োজিত থাকে। ফলে ব্যবসায় বা হিসাবের গোপনীয়তা রক্ষা করার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দেয়।

দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসরণে যদিও কতিপয় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় তথাপি এর সুবিধা এত বেশি এবং
গ্রহণযোগ্যতা এত ব্যাপক যে বর্তমান যুগে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব রাখা হয়।

Related posts